ইসলামী জ্ঞান অর্জনের উপকারিতা

 


📚 ইসলামী জ্ঞান অর্জনের উপকারিতা

ভূমিকা

ইলম বা জ্ঞান মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ অলংকার। তবে প্রতিটি জ্ঞান সমান নয়। পার্থিব জ্ঞান মানুষকে দুনিয়ার উন্নতির পথ দেখায়, কিন্তু ইসলামী জ্ঞান মানুষকে শুধু দুনিয়াতেই নয় বরং আখিরাতেও সফলতা এনে দেয়। ইসলামী জ্ঞান হলো সেই আলো, যা মানুষকে অন্ধকার থেকে বের করে আল্লাহর নূরের পথে নিয়ে যায়।

আল্লাহ তাআলা কোরআনে বারবার বলেছেন জ্ঞান অর্জনের কথা। রাসূলুল্লাহ ﷺ-ও জ্ঞান অর্জনকে ফরজ বলেছেন। তাই ইসলামী জ্ঞান প্রতিটি মুসলমানের জীবনে অপরিহার্য।


১. ইসলামী জ্ঞান কী এবং কেন জরুরি

ইসলামী জ্ঞান বলতে বোঝায়—কোরআন, হাদীস, ফিকহ, আকীদাহ, তাফসীর, তাজবিদ, আরবি ভাষা, ইসলামের ইতিহাস ও নৈতিক শিক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে সঠিক ধারণা লাভ করা।

📌 ইসলামী জ্ঞান জরুরি হওয়ার কারণ

  1. এটি আমাদের ইমান মজবুত করে।

  2. আল্লাহর পরিচয় করিয়ে দেয়।

  3. হালাল-হারাম চেনার ক্ষমতা দেয়।

  4. জীবনকে ইসলামী শৃঙ্খলায় আনে।

  5. আখিরাতের মুক্তির নিশ্চয়তা দেয়।


২. কোরআন ও হাদীসে ইসলামী জ্ঞানের গুরুত্ব

📖 কোরআন থেকে

  • আল্লাহ তাআলা বলেন:
    “বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না—তারা কি সমান হতে পারে?” (সূরা যুমার: ৯)

  • আরেক আয়াতে:
    “আল্লাহ তাদের মর্যাদা উঁচু করবেন, যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে।” (সূরা মুজাদালা: ১১)

📖 হাদীস থেকে

  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
    “ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ।” (ইবনে মাজাহ)

  • তিনি আরও বলেন:
    “আল্লাহ যার সাথে কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন।” (বুখারি, মুসলিম)


৩. ইসলামী জ্ঞান অর্জনের ব্যক্তিগত উপকারিতা

১️⃣ ইমান ও আমল মজবুত হয়

জ্ঞান ছাড়া সঠিকভাবে ইবাদত করা সম্ভব নয়। যেমন—নামাজ পড়তে হলে নামাজের সঠিক নিয়ম জানতে হবে, রোজা রাখতে হলে রোজার শর্ত জানতে হবে।

২️⃣ আত্মার প্রশান্তি লাভ হয়

কোরআন-হাদীস জানা মানে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করা। এতে দুশ্চিন্তা কমে যায় এবং হৃদয়ে শান্তি আসে।

৩️⃣ নৈতিক উন্নতি হয়

ইসলামী জ্ঞান মানুষকে সত্যবাদী, বিশ্বস্ত, দয়ালু ও সৎ হতে শিক্ষা দেয়।

৪️⃣ ভুল থেকে বাঁচায়

যারা দ্বীনের জ্ঞান রাখে, তারা সহজেই গুনাহ ও কুসংস্কার থেকে দূরে থাকতে পারে।


৪. ইসলামী জ্ঞানের সামাজিক উপকারিতা

📌 পরিবারে প্রভাব

  • দ্বীনের জ্ঞানসম্পন্ন বাবা-মা সন্তানদের সঠিকভাবে লালন-পালন করতে পারে।

  • পারিবারিক বিবাদ কমে যায়, কারণ সবাই ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী চলতে শেখে।

📌 সমাজে প্রভাব

  • ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

  • পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা বাড়ে।

  • অন্যায়, অপরাধ ও কুসংস্কার কমে যায়।


৫. ইসলামী জ্ঞান ও আখিরাত

📌 কিয়ামতের দিনে মর্যাদা

  • যারা কোরআন ও হাদীসের জ্ঞান রাখবে, তারা কিয়ামতের দিনে বিশেষ মর্যাদা পাবে।

📌 জান্নাতের পথ সহজ

  • সঠিক জ্ঞান মানুষকে হালাল-হারাম শিখায়, আল্লাহর নির্দেশ মানতে সাহায্য করে। ফলে জান্নাতের রাস্তা সহজ হয়ে যায়।

📌 জ্ঞানের সওয়াব অব্যাহত

  • হাদীসে এসেছে: “মানুষ মারা গেলে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি জিনিস ছাড়া—সাদকায়ে জারিয়া, নেক সন্তান, আর উপকারী জ্ঞান।” (মুসলিম)

অতএব ইসলামী জ্ঞান এমন এক সম্পদ, যা মৃত্যুর পরও উপকার করে।


৬. আধুনিক যুগে ইসলামী জ্ঞানের প্রয়োজন

আজকের যুগে মানুষ প্রযুক্তি ও দুনিয়াবি জ্ঞানে উন্নতি করেছে, কিন্তু নৈতিক অবক্ষয় দিন দিন বাড়ছে। দুর্নীতি, জুলুম, অন্যায়, অসভ্যতা—সবকিছুর কারণ হলো দ্বীনের জ্ঞান থেকে দূরে সরে যাওয়া।

📌 তাই আধুনিক যুগে ইসলামী জ্ঞান কেন দরকার?

  1. প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানতে।

  2. হারাম বিনোদন থেকে বাঁচতে।

  3. অর্থনৈতিক লেনদেনে ইসলামী বিধান মানতে।

  4. পরিবার ও সমাজে শান্তি আনতে।


৭. ইসলামী জ্ঞান অর্জনের উপায়

  1. কোরআন ও হাদীস পড়া ও বোঝা।

  2. আলেম-ওলামার কাছে শিক্ষা নেওয়া।

  3. মাদরাসা ও ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া।

  4. অনলাইনে নির্ভরযোগ্য দ্বীনি লেকচার শোনা।

  5. ভালো বই পড়া ও চর্চা করা।


উপসংহার

ইসলামী জ্ঞান অর্জন শুধু একটি নৈতিক দায়িত্ব নয়; বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরজ করা হয়েছে। এই জ্ঞান মানুষকে সঠিক পথ দেখায়, জীবনে শান্তি আনে, সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে এবং আখিরাতে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়।

তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত—নিজে ইসলামী জ্ঞান অর্জন করা, সন্তানদের শেখানো এবং সমাজে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেওয়া।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url